Our News

Uncategorized

বাংলাদেশে গাড়ি ভাবনা ও পর্যালোচনা

কর্ম ব্যস্ততাময় জীবনে চলার পথে আমাদের দুরুত্ব কমানোর একমাত্র সমাধান “গাড়ি”। নানা রকম গাড়ি ভাড়ায় চালিত থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়িও নেহাত কম নয়। সুত্রমতে, রাজধানীতে যে পরিমান গাড়ি চলাচল করে তার ৩.৫% বাস এবং ২২% প্রাইভেট কার। এর পরেও প্রতি নিয়ত বেড়ে চলেছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। বিশ্ববাজারে আধুনিকতার প্রসারণ প্রতিনিয়ত হতেই আছে। সেই আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে বাজারে রয়েছে নিত্য নতুন গাড়ির সমাগম। একটু পিছনে ফিরে দেখলে মাত্র ১ দশক আগেও আমাদের দেশে গুটিকয়েক গাড়ির শো-রুম ছিল তাও সবগুলো ছিল রিকন্ডিশন্ড। এই শো-রুমগুলো ছিল নয়াপল্টন-বিজয়নগরে। কিন্তু এখন তেজগাঁও লিঙ্ক রোড, প্রগতি সরণীতে সারি সারি গাড়ির শো-রুম চোখে পড়বে। বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ)এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের দেশে মোট ২০ ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এই যানবাহনগুলোর মধ্যে মাইক্রোবাস, জীপ এবং কার ব্যক্তিগত ব্যবহার্য গাড়ী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ব্যবসায়িক বা বানিজ্যিক যানবাহন হিসেবে বাস এবং ট্রাক সর্বাধিক পরিচিত। এগুলো ছাড়াও বাংলাদেশের রাস্তায় আরো একটি যানের প্রচুর দৌরাত্ম রয়েছে আর সেটা হল মোটরসাইকেল। সূত্রমতে, আমাদের দেশের মোট যানবাহনের শতকরা ৫০ ভাগই মোটিরসাইকেল। দেশ স্বাধীন হওয়ার থেকে শুরু করে ২০১০ সালে এসে দেশে ব্যক্তি মালিকাধীন মাইক্রোবাস, জীপ এবং প্রাইভেট কারের সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৯৫টি। এই অংকটি ২০১৬ সাল নাগাদ হয়েছিল ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৫টি তে। এত অল্প সময়ের মধ্যেই এই সংখ্যার পরিবর্তনের অন্যতম কারন হল দেশে শুধু শো রুমেরই সংখ্যা বাড়েনি সেই সাথে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এবং ব্যাংকগুলোর গাড়ি কেনার জন্য নানারকম ঋন সুবিধা প্রদানের হারও বেড়েছে। দেশের রাস্তাঘাটে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম থাকলেও প্রাইভেট কারও খুব একটা কম যায় না। কারন যানবাহনের মোট সংখ্যার ২য় অবস্থানে রয়েছে প্রাইভেট কার। এবং বছর বছর এই সংখ্যাটি বাড়তেই আছে। আমাদের দেশে বছর বছর প্রাইভেট কারের সংখ্যা বাড়লেও নতুন গাড়ির পরিমান কম। বেশীরভাগই রিকন্ডিশন্ড। সঠিক তথ্য উপাত্ত পাওয়া না গেলেও মোট কারের ৭৫ শতাংশই রিকন্ডিশন্ড বলে জানা যায়। চলতি বছরের হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন ৭০টি বিক্রি হচ্ছে এবং এই সংখ্যাটি বিগত ৩ বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। তবে নতুন ব্র্যান্ডের গাড়ি আমদানি করতে হলে বিশাল অংকের ট্যাক্স গুনতে হয় ফলে তা অনেক ক্রেতারই নাগালের বাইরে চলে যায়। মুলত বাজারের বড় একটি স্থান রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দখলে যাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় কারন। বাংলাদেশে জনপ্রিয় কিছু গাড়ি ও তার সম্ভাব্য দাম নিচে দেয়া হলঃ টয়োটা নোয়াহঃ ১০ লক্ষ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা বা তার বেশি টয়োটা করোলাঃ ২০ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বা তার বেশি টয়োটা এক্সিয়ো/এলিওনঃ ১০ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বা তার বেশি মিতসুবিশী পাজেরোঃ ৭০ লক্ষ থেকে ৯০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি টয়োটা প্রোবক্স/ফীল্ডারঃ ৭ লক্ষ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা বা তার বেশি উল্লেখিত তালিকাটিতে টয়োটার নাম বার বার ঘুরে ফিরে আসার কারন হল এর পার্টস মোটামোটি দেশের সব যায়গায় সহজলভ্য এবং দামটাও অনেকটাই সাশ্রয়ী। এছাড়াও টয়োটার অনেক মডেল রয়েছে যেখান থেকে বাজেট অনুযায়ী ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের গাড়িটি খুঁজে পান সহজেই। দেশের গাড়ির জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো সম্পর্কে তো কিছুটা ধারনা পাওয়া গেল, এবার চলুন ২০১৮ সালের কিছু সেরা গাড়ির তালিকাটি দেখিঃ টয়োটা ইয়ারিস আইএ মিডসাইজ এসইউভি : টয়োটা হাই ল্যান্ডার কম্প্যাক্ট কার : শেভ্রলেট ক্রুজ স্মল এসইউভি : সুবারু ফরেস্টার লার্জ সেডান : শেভ্রলেট ইম্পালা মিড-সাইজ সেডান : কিয়া অপ্টিমা স্পোর্টস কার : মাজডা এমএক্স-৫ মিয়াটা কম্প্যাক্ট হাইব্রিড : টয়োটা প্রিয়াস সেরা গাড়ির এই তালিকাটি মূলত করা হয়েছে বাজেটের বিষয়টি বিবেচনা করে। তবে যারা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কিনতে চাচ্ছেন তাদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল কেনার পূর্বে অবশ্যই ইঞ্জিন অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে চেক করে নেয়া।

 

 

লেখক : সানজিদা জামান

  • Share:

Leave a Comment

sing in to post your comment or sign-up if you don't have any account.