Our News

Uncategorized

সাধারণ গাড়িকে স্পোর্টস কারে রূপান্তরের উপায়

ফাস্ট আ্যন্ড ফিউরিয়াস”মুভির রঙ চঙে ক্ষিপ্র গতির স্পোর্টসকার গুলো দেখে এমন বিলাসবহুল গাড়ি চড়ার সাধ কার না জাগে ! টিভির পর্দায় বিজ্ঞাপনে বা কার রেসিং এ যখন স্পোর্টসকার গুলো ধুলো উড়িয়ে প্রচন্ড বেগে ছুটে যায় তখন খনিকের জন্য হলেও মনে হয়  ‘ ইশ!অমন একটা গাড়িতে চড়তে পারলে মন্দ হতো না!’ গাড়িপ্রেমীরা প্রায়শই কল্পনায়  নিজেদেরকে স্পোর্টসকার এর স্টিয়ারিং হাতে খুজে পান।কিন্তু বাস্তবতার ধাক্কায় সে হাত স্টিয়ারিং থেকে সরে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক।কারণ এসব নামি দামি স্পোর্টসকার খুব কম মানুষের ই সাধ্যের মাঝে। তবে যদি বলি আপনার গ্যারেজে পরে থাকা সাধারণ গাড়িটিকেই একটু কাটা ছেড়া করেই স্পোর্টসকার এ রূপ দেয়া যায় তাহলে কেমন হয়? একটি বেসিক গাড়ি,কিছু আর্থিক পূঁজি এবং স্পোর্টসকার চালানোর ইচ্ছা থাকাটাই যথেষ্ট। এ প্রক্রিয়ায় রুপান্তরিত গাড়িগুলোকে সাধারণত প্রজেক্ট কার বলা হয়ে থাকে।
এভাবে গাড়িতে পরিবর্তন আনতে হলে বা সংস্কার করতে হলে দুটি দিকে খেয়াল রাখতে হবে – গাড়ির পারফরমেন্স এর পরিবর্তন এবং গাড়ির চেহারার রুপান্তর।
গাড়ি রুপান্তরের কাজটিতে গাড়ির পারফরমেন্স বৃদ্ধির  পেছনেই খরচের সর্বোচ্চ দিকটি থাকে –
ইঞ্জিন পরিবর্তন: অন্য কনো দিক পরিবর্তন না করে শুধু গাড়ির ইঞ্জিন বদলানোর মাধ্যমেই পারফরমেন্সে আমূল পরিবর্তন ঘটানো যায়। গাড়ির সাথে মিল রেখে বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে তবেই কাজটি করতে হবে। অনেক ধরনের রেসিং কার ইঞ্জিন থাকলেও এদেশের প্রেক্ষিতে 2zz ge, 3sge,3sgte,4age blacktop 20v ইঞ্জিন গুলো বহুলব্যবহৃত।
টর্ক:  সোজা লেনে চলার জন্য বেশি টর্ক ও কম হর্স পাওয়ার উপযোগী এবং বাক যুক্ত পথের জন্য কম টর্ক উপযুক্ত। তাই চাহিদা বুঝে এ পরিবর্তন আনতে হবে।
হ্যান্ডেলিং: টর্কের মতো এটিও নিজের প্রয়োজন ও সাচ্ছন্দ্যের ওপর নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে বাজারে অনেক মডেল রয়েছে আবার কাস্টমাইজ ও করা যায়।
পোটেনশিয়াল: সকল স্পোর্টসকারেই সুপার চার্জার বা টার্বো থাকে এদের উচ্চ ক্ষমতার জন্য। তাই গাড়ি রুপান্তরের সময় সাধারণ গাড়িতে এর সংযোজন প্রয়োজন।
রিমস এবং টায়ারস: গাড়ির ধরনের ওপর নির্ভর করে ফ্ল্যাট বেস রেসিং টায়ার বা ভারী অফ রোড চাকা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখানে একটু বেশি খরচ গাড়ির স্টিইল পালটে দিতে পারে।
বডি কিট: বডি কিট ও স্কার্টস গাড়ির দু’পাশে বা সামনে যেখানে ইচ্ছা যুক্ত করা যাবে। ফুল কার বডি কিট ও গ্রাউন্ড ইফেক্ট বডি কিট জনপ্রিয়।
এবার চলুন গাড়ির বাহ্যিক সৌন্দর্যের কথায় আসি-
সিট ও কারপেট: উচ্চ গতিতে চলার সময় যেন আরামের কনো ঘাটতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে গাড়ির সিট ও কারপেট পাল্টে নিন নিজের পছন্দমত।
স্টেরিও সিস্টেম: গাড়িতে চড়ার সময় পছন্দের গানটা না বাজলে স্পোর্টসকার এর আমেজটাই অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। তাই গাড়িতে ভালো মানের স্টেরিও সিস্টেম নতুন করে ইন্সটল করে নিন। তার সাথে ডাবল ডিন জিপিএস টাচ স্ক্রিন এর কথাও মাথায় রাখবেন।
পেইন্ট: এটি সম্ভবত গাড়ি রুপান্তরের সবচেয়ে উত্তেজনাময় ধাপ।বিশাল রঙ এর সম্ভার থেকে আপনি পছন্দের রঙটি বেছে নিতে পারবেন। তিন ধরনের বডি পেইন্ট দেখা যায়-
১.ইউরেথেইন কার পেইন্ট,
২.মেটালিক কার পেইন্ট এবং
৩.আ্যক্রেলিক কার পেইন্ট
ব্যাজ: আপনার পুরনো গাড়ির ব্যাজটি খুলে ফেলুন। আপনার গাড়িকে এনে দেবে এক নতুন ‘এজি লুক’।
স্পয়লার: যদিও স্পয়লার সব মডেল বা ব্র‍্যান্ড এর জন্য নয়,তবু এটি গাড়িকে সুদর্শন করে তোলার সবচেয়ে সহজ উপায়।এখানে পাতলা ফাইবার গ্লাস এর ব্যবহার করা যায় যা দামেও সাশ্রয়ী
হিসেব নিকেষ-
এ বিষয়টি অনেকাংশেই মালিকের ওপর নির্ভর করবে।গাড়ির শুধুমাত্র একটি অংশে পরিবর্তন আনতে হলে তা ১০০ ইউ এস ডি তেও সম্ভব। তবে গাড়িকে সম্পূর্ণ স্পোর্টসকারে রুপান্তর করতে হলে বাজেট ৪৫ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা হওয়া প্রয়োজন।শুধু ইঞ্জিনের পরিবর্তন সম্ভব ২-৬ লাখ টাকার মধ্যেই।
তবে আর দেরি কেন? আপনার গাড়িকে এখনই ম্যাগাজিনের পাতায় দেখা কোনো দৃষ্টিনান্দনিক স্পোর্টসকারের রূপ দিয়ে দিন আর কেরে নিন সকল পথযাত্রীর দৃষ্টি।
লেখক : রামিসা
  • Share:

Leave a Comment

sing in to post your comment or sign-up if you don't have any account.